সমবায়ের মাধ্যমে একটি আত্মনির্ভরশীল সমাজ ও জাতি গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। তিনি বলেন, সমবায়ের মূল শক্তি হচ্ছে ঐক্য, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্মিলিত উদ্যোগ। নারী-পুরুষ সবাইকে সমবায়ের আওতায় এনে গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।
রোববার (৮ নভেম্বর) দুপুরে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসন চত্বরে জাতীয় সমবায় দিবস উপলক্ষে প্রশাসন ও সমবায় বিভাগের আয়োজনে আয়োজিত বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
সমবায়ের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, ছোটবেলায় আমরা একটি গল্প পড়েছি- একজন বাবার ছয় সন্তান ছিল। বাবা প্রত্যেককে একটি করে কাঠি দিয়ে ভাঙতে বললে তারা সহজেই তা ভেঙে ফেলতে পারে। কিন্তু ছয়টি কাঠি একসঙ্গে বেঁধে দিলে কেউ আর তা ভাঙতে পারে না। এই গল্পের শিক্ষা হলো, ঐক্যবদ্ধ শক্তি অনেক বেশি দৃঢ়। ১০ জন, ২০ জন কিংবা ২০০ জন মানুষ যখন একটি ভালো উদ্যোগে একসঙ্গে কাজ শুরু করেন, তখন সেই উদ্যোগের সফলতার সম্ভাবনাও বহুগুণ বেড়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, সমবায় শুধু একটি নিবন্ধনকেন্দ্রিক কার্যক্রম নয়। এটি মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি, সামাজিক ঐক্য ও আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনের অন্যতম মাধ্যম। বিশেষ করে গ্রামীণ অঞ্চলের নারী-পুরুষকে সমবায়ভিত্তিক বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে হবে। কৃষি, ক্ষুদ্র ব্যবসা, উৎপাদন, সঞ্চয় ও কর্মসংস্থানসহ নানা ক্ষেত্রে দলবদ্ধ উদ্যোগ গড়ে তুলতে পারলে মানুষ নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ পাবে।
সমবায়ের কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত ও কার্যকর করা গেলে নারী-পুরুষের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন বাড়বে, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতি আরও সমৃদ্ধ হবে। এর মধ্য দিয়েই দ্রুত একটি আত্মনির্ভরশীল জাতি গঠন সম্ভব হবে বলেও আশা করেন তিনি।
এদিকে জেলার সাম্প্রতিক অপরাধ পরিস্থিতিতে খুন, ছিনতাই ও ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধ কমে আসায় সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, গত মাসের অপরাধসংক্রান্ত পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় খুন, দুর্ঘটনা, ছিনতাই ও ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধের ক্ষেত্রে ইতিবাচক চিত্র দেখা গেছে। সামগ্রিকভাবে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। এ ধারা অব্যাহত রাখতে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ জেলার সব সরকারি দফতরের কর্মকর্তাদের আরও জনবান্ধব হয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে কাজ করতে হবে।
তবে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সারা দেশে আত্মহত্যার প্রবণতা বৃদ্ধি একটি বড় সামাজিক সংকটে পরিণত হচ্ছে। শুধু কিশোর-কিশোরী নয়, বয়স্ক মানুষের মধ্যেও এ প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এটি প্রতিরোধে কেবল প্রশাসনিক উদ্যোগ যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন পারিবারিক, সামাজিক ও সম্মিলিত সচেতনতা। এ লক্ষ্যে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের পাশাপাশি ইউনিয়ন পর্যায়েও সভা-সমাবেশ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। মানুষের মধ্যে এমন সচেতনতা তৈরি করতে হবে, যাতে হতাশাগ্রস্ত ও মানসিক সংকটে থাকা ব্যক্তিরা পরিবার ও সমাজের সহযোগিতা পান এবং আত্মহত্যার মতো ভয়াবহ সিদ্ধান্ত থেকে ফিরে আসতে পারেন।
এর আগে প্রতিমন্ত্রী জেলা প্রশাসনের আয়োজনে সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা কমিটির আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ করেন। পরে সেখান থেকে জেলা প্রশাসন চত্বরে নেমে সমবায় দিবসের শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন। একই সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও ফিতা কেটে দিবসটির উদ্বোধন করেন তিনি।
এসময় পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক শুকরিয়া পারভীন, জেলা পরিষদের প্রশাসক এম এ মজিদ, পুলিশ সুপার আবু সাইম, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহিরুল ইসলাম কাচ্চু, জেলা জামায়াতের ইসলামির আমির ইকবাল হোসাইন, পঞ্চগড় জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর মির্জা নাজমুল ইসলাম কাজল, বিভিন্ন সরকারি দফতরের কর্মকর্তা কর্মচারীসহ সমবায় সমিতির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

