সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ৩২তম জেনেভা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ‘ফিউচার ইজ সেন্সিবল অ্যাওয়ার্ড ফর বেস্ট সিরিজ’ অর্জন করেছে বাংলাদেশের মিনিসিরিজ ‘অ্যানি’। নির্মাতা আবদুল্লাহ মোহাম্মাদ সাদ পরিচালিত এবং নাজিফা তুষী অভিনীত সিরিজটি প্রথমবারের মতো এই উৎসবে অংশ নিয়েই সেরা সিরিজের স্বীকৃতি অর্জন করেছে।
গত ৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় মেজোঁ কম্যুনাল দ্য প্লেনপালের থিয়েটার পিটোয়েফে অনুষ্ঠিত হয় উৎসবের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। সেখানেই ‘ফিউচার ইজ সেন্সিবল’ বিভাগে সেরা সিরিজ হিসেবে ‘অ্যানি’র নাম ঘোষণা করা হয়।
আন্তর্জাতিক এই অর্জনে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন সিরিজটির নির্মাতা ও কলাকুশলীরা। তাদের ভাষ্য, ‘আমরা শুধু একটি গল্প বলতে চেয়েছিলাম। আজ সেই গল্পকে নিজ ডানায় ভর করে উড়তে দেখে ভীষণ ভালো লাগছে। ‘অ্যানি’ আমাদের অনেকের আস্থা ও সাহসের সম্মিলিত একটি স্বপ্নের দীর্ঘ যাত্রা। এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আমাদের সেই যাত্রাকে আরও বিশেষ ও স্মরণীয় করে তুলেছে।’
এর আগে উৎসবে গত ২ ও ৫ নভেম্বর জেনেভার ‘লে সিনেমা দু গ্র্যুতি–সাল সিমোঁ’ প্রেক্ষাগৃহে ‘অ্যানি’র দুটি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। প্রদর্শনীর পর ৭ নভেম্বর উৎসবের সমাপনী আয়োজনে আসে কাঙ্ক্ষিত আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।
আবদুল্লাহ মোহাম্মাদ সাদ পরিচালিত এই মিনিসিরিজের নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন নাজিফা তুষী। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন চরিত্রে রয়েছেন ইয়াশ রোহান, সাইমন সাদিক, সারিকা সাবরিন, ফারহানা মিঠু ও নাজাহ নাওয়ারসহ অনেকে।
জেনেভা উৎসবের আগে জার্মানির কোলনে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সিরিজ উৎসব ‘সেরিয়েনক্যাম্প ফেস্টিভ্যাল’-এর ‘উইমেন ইন সিরিজ’ বিভাগেও জায়গা করে নেয় ‘অ্যানি’। গত ৯ জুন ওই উৎসবেই সিরিজটির বিশ্ব প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের দর্শকদের জন্য ওটিটি প্ল্যাটফর্ম আইস্ক্রিনে এটি মুক্তি পাওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রযোজকরা।
‘অ্যানি’ প্রযোজনা করেছে মেট্রোভিডিও, ক্যাটালগ ও জিরেল। সিরিজটির প্রযোজক এহসানুল হক বাবু ও আলি আফজাল উজ্জ্বল।
উল্লেখ্য, নির্মাতা আবদুল্লাহ মোহাম্মাদ সাদ এর আগে ২০১৬ সালে তার প্রথম চলচ্চিত্র ‘লাইভ ফ্রম ঢাকা’ দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিতি পান। এরপর ২০২১ সালে তার দ্বিতীয় চলচ্চিত্র ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ কান চলচ্চিত্র উৎসবের গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ ‘আঁ সার্তে রিগা’য় নির্বাচিত হয়। কান উৎসবের অফিশিয়াল সিলেকশনে জায়গা করে নেওয়া বাংলাদেশের প্রথম চলচ্চিত্র এটি। বিশ্বের ১৫টিরও বেশি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছিল ছবিটি।

