তুরস্কের আনতালিয়ায় শুরু হতে যাচ্ছে জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন কপ-৩১। এতে বিশ্বনেতাদের পাশাপাশি অংশ নেবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি হিসেবে এবারের সম্মেলনেও অর্থায়ন, অভিযোজন এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ আদায়ে তাই বাংলাদেশের প্রত্যাশা অনেক।
জানা গেছে, আনতালিয়ায় সোমবার (৯ নভেম্বর) শুরু হয়ে ১২ দিনব্যাপী এ সম্মেলন চলবে।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে প্রতিনিয়ত বাড়ছে বাংলাদেশের ঝুঁকি। উপকূলে লবণাক্ততা, নদী ভাঙন, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ও তাপপ্রবাহের মতো সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজন বিপুল অর্থ ও কার্যকর পরিকল্পনা। এমন বাস্তবতায় এবারের জলবায়ু সম্মেলনকে বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রথমবারের মতো জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলনে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক পরিসরে দেশের জলবায়ু সংকট ও প্রত্যাশার বিষয়গুলো জোরালোভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে বলে মনে করছে পরিবেশ মন্ত্রণালয়। সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশের নিজস্ব সক্ষমতা, অভিযোজন পরিকল্পনা ও বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরবে ঢাকা।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, শব্দদূষণ, বায়ুদূষণ ও পানিদূষণ মোকাবিলার পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং প্রকৃতিভিত্তিক সমাধানের বিষয়গুলো তুলে ধরা হবে। একইসঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রতিবেশী দেশগুলোর দূষণের কারণে বাংলাদেশ যেসব ক্ষতির মুখে পড়ছে, সেসবের ক্ষতিপূরণ আদায়ের চেষ্টা করা হবে। বাংলাদেশ যে পরিমাণ সহায়তা পাওয়ার যোগ্য তা আদায়ে দরকষাকষি গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য আলোচনায় দেশের দাবিগুলো সুনির্দিষ্টভাবে তুলে ধরতে বিশেষজ্ঞদের প্রস্তুত করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের দাবি আদায়ে প্রয়োজন সমন্বিত অবস্থান। নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে আঞ্চলিক জোটের মাধ্যমে দাবি তুলে ধরতে পারলে দরকষাকষিতে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।
সেন্টার ফর পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (সিপিআরডি) প্রধান নির্বাহী মো. শামসুদ্দোহা সময় সংবাদকে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় অর্থায়নের ক্ষেত্রে কোনো দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতার চেয়ে দেশটি কতটা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, তা বেশি গুরুত্ব পাওয়া উচিত। জাতিসংঘের জলবায়ু আলোচনার প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশকে এ বিষয়টি তুলে ধরতে হবে। এ জন্য বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানকে নিয়ে যে জোট রয়েছে, সেটিকে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। এতে অভিযোজন ও অনুদানভিত্তিক অর্থায়নের পক্ষে বাংলাদেশের দাবি আরও জোরালোভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব হবে।
বর্তমানে কপ-৩১ থেকে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা মানুষের জন্য কার্যকর অর্থায়ন ও বাস্তবভিত্তিক সহায়তা নিশ্চিত করাই বাংলাদেশের প্রধান প্রত্যাশা।

