বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ঘনীভূত ও মৌসুমি বায়ু নিম্নচাপে পরিণত হওয়ায় মোংলা সমুদ্রবন্দরসহ সুন্দরবন উপকূলে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া বিরাজ করছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে মোংলা বন্দরে থাকা দেশি-বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজে পণ্য খালাস-বোঝাই কাজ।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল পর্যন্ত এ উপকূলসহ মোংলা বন্দর এলাকায় দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া বিরাজ করছে।
মোংলা বন্দরের হারবার বিভাগ ও আবহাওয়া অফিস জানায়, দেশের দক্ষিণাঞ্চলে বেশ বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এটি দু’একদিনের মধ্যে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়বে। এরপর আবারও কমবে। আর বৃষ্টিপাত কমলেই গরম আবারও বাড়বে, তবে বৃষ্টি আর বাতাসের পর তাপমাত্রা কিছুটা কমতে শুরু করবে। বর্তমানে মোংলা বন্দরসহ দেশের অন্যান্য এলাকার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে গভীর নিম্নচাপ। যে কারণে সাগর উত্তাল রয়েছে। ঝড়ো আবহাওয়ার কারণে বন্দরগুলোকে ৩নং স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অফিস।
এ বিষয়ে মোংলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হারুন আর রশিদ জানান, দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশ উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি আরও উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হয়ে গভীর নিম্নচাপে রূপ নিয়ে সোমবার রাত ১২টায় সন্দ্বীপ ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থান করছিল। এটি আরও দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে বৃহস্পতিবার মধ্যরাত নাগাদ ভারতের উড়িষ্যা উপকূল অতিক্রম করবে। নিম্নচাপটি ৪৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৪০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া আকারে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। নিম্নচাপ বহাল থাকার কারণে বঙ্গোপসাগর উত্তাল রয়েছে। গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে বায়ুচাপের পার্থক্যের আধিক্য বিরাজ করছে।
তিনি আরও জানান, দক্ষিণ বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালার সৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। বঙ্গোপসাগর বাংলাদেশর উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্র বন্দরগুলোর ওপর দিয়ে আরও বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। তবে বড় ধরণের কোনো ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কা নেই। ঝড়ো হাওয়ার কারণে মোংলা, পায়রা, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলার নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।
এদিকে মোংলা বন্দরের হারবার বিভাগ জানায়, চ্যানেলের হারবাড়িয়া, বহির্নোঙর ও জেটিতে সার-ক্লিংকার ও মেশিনারিজ মালামালসহ ৬টি বাণিজ্যিক জাহাজ অবস্থান করছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে এ সব জাহাজে নিয়মিত খালাস কাজ চলছে না। এদিকে সমুদ্র উত্তাল থাকায় গভীর সমুদ্রে অবস্থান করা মাছধরা ট্রলারসহ শত শত মাঝিমাল্লা সুন্দরবনসংলগ্ন দুবলার চরাঞ্চলের বিভিন্ন খালে আশ্রয় নিয়েছে। এ ছাড়া বৃষ্টির কারণে এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
