ভারতের নির্বাচন কমিশনের (ইসিআই) ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্কের মধ্যে দেশটির নির্বাচন ‘কারচুপিপূর্ণ’ বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতা রাহুল গান্ধী। একই অভিযোগ তুলেছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) নামের একটি রাজনৈতিক আন্দোলনও।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, ভারতে নির্বাচন ‘কারচুপি’ করা হচ্ছে। এ জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেন তিনি।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর-সংক্রান্ত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে গত ১০ মাসে নির্বাচন কমিশনের অপর দুই কমিশনার অন্তত ১৪টি আপত্তি জানিয়েছিলেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটি ঘটনায় দুই নির্বাচন কমিশনারের লিখিত পরামর্শ উপেক্ষা করে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। আপত্তিতে ওই সিদ্ধান্তকে ‘অননুমোদিত ও বেআইনি’ বলেও উল্লেখ করা হয়।
বর্তমানে তিন নির্বাচন কমিশনার ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া তদারক করছেন। নির্বাচন কমিশনের ভাষ্য, মৃত, স্থানান্তরিত ও একাধিকবার তালিকাভুক্ত ভোটারদের বাদ দেওয়া এবং ‘বিদেশি অবৈধ অভিবাসীদের’ ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তি ঠেকানোই এই কার্যক্রমের উদ্দেশ্য।
তবে সমালোচকদের অভিযোগ, এসআইআর-এর পরিধি এর চেয়ে অনেক বেশি বাড়ানো হয়েছে এবং এর ফলে লাখ লাখ বৈধ ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। বিরোধীদের দাবি, এতে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সুবিধা পেতে পারে।
রাহুল গান্ধী বলেন, ‘যদি ভোট ধ্বংস হয়ে যায়, তাহলে আমাদের সংবিধানও ধ্বংস হয়ে যায়। তখন এর আর কোনো ক্ষমতা থাকে না।’
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন কংগ্রেস নেতা। তার অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সমর্থনে কুমার নির্বাচন কমিশনের প্রধান পদে আসীন হয়েছেন। রাহুল তাদের বিরুদ্ধে কথিত ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে তদন্তের দাবি জানান।
তবে ক্ষমতাসীন বিজেপি এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। দলটির মুখপাত্র সুধাংশু ত্রিবেদী বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনের পক্ষ নিয়ে বলেন, এসআইআর প্রক্রিয়া আইনসম্মত এবং কমিশনের সিদ্ধান্ত সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে। তার দাবি, আইন অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব বিবেচনায় এসআইআর পরিচালনার ক্ষমতা রয়েছে।
এদিকে নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই ককরোচ জনতা পার্টিও নির্বাচনকে ‘কারচুপিপূর্ণ’ দাবি করে বিরোধী দলগুলোর অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। দলটির বক্তব্য, নির্বাচন নিয়ে গুরুতর অভিযোগ থাকলে একই নির্বাচনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে সেই ব্যবস্থাকে বৈধতা দেওয়া উচিত নয়।
তথ্যসূত্র: ডয়চে ভেলে
