বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে দুর্গাপূজার আলোকসজ্জা সীমিত করার আহবান বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে দুর্গাপূজার আলোকসজ্জা সীমিত করার আহবান বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর

চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি এবং মধ্যপ্রাচ্য সংকটের প্রেক্ষাপটে দেশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় রাখাকে প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেছেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি এ কঠিন সময়ে দুর্গাপূজায় অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা পরিহার করে তা সীমিত পরিসরে রাখার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।

শনিবার দুপুরে যশোর জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে আসন্ন শারদীয় দুর্গা পূজা উপলক্ষে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ আহ্বান জানান।

জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বিগত বছরগুলোর তুলনায় বর্তমানে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত চরম চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে আলোকসজ্জার ব্যাপকতা বাড়ানো হলে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হবে, যা নিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না পেলে তা কেবল উৎসবের আনন্দের বিঘ্ন ঘটাবে না, বরং নিরাপত্তার ঝুঁকিও বাড়িয়ে তুলবে। বিকল্প হিসেবে জেনারেটর ব্যবহারের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয় যে, জেনারেটরের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেলও দেশকে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করে আমদানি করতে হয়। আমাদের প্রবাসী শ্রমিক এবং তৈরি পোশাক শিল্পের কর্মীসহ খেটে খাওয়া মানুষের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রায় এই জ্বালানি কেনা হয়। ফলে ব্যক্তিপর্যায়ে অর্থ খরচের সামর্থ্য থাকলেও জাতীয় স্বার্থে এই সম্পদের সাশ্রয়ী ব্যবহার অপরিহার্য।

এ অবস্থায় পুরো এলাকা বা দীর্ঘ পথ জুড়ে ব্যাপক আলোকসজ্জা না করে কেবল মণ্ডপ বা প্রতিমাকেন্দ্রিক সীমিত পরিসরে আলো ব্যবহারের পরামর্শ দেন প্রতিমন্ত্রী। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে শিক্ষিত ও সচেতন নাগরিক হিসেবে সবাইকে এ বিষয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের অনুরোধ জানান তিনি।

একইসাথে দুর্গোৎসবের নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি আগামী এক অক্টোবর থেকে মোটরসাইকেলসহ সমস্ত যানবাহন তল্লাশির নির্দেশ দেন তিনি।

জেলা প্রশাসক মো. আশেক হাসানের সভাপতিত্বে সুষ্ঠুভাবে দুর্গাপূজা সম্পন্নের লক্ষ্যে মতামত তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দীপংঙ্কর দাস রতন, সাধারণ সম্পাদক তপন ঘোষসহ জেলা ও উপজপলা পূজা উদযাপন পরিষদের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা ও রাজনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক ও প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

সভায় জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, যশোরে এবছর গত বছরের চেয়ে ২৮টি বেশি পূজা মন্ডপে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। গত বছর ৭০৯টি ও এবছর ৭৩৭টি স্থায়ী ও অস্থায়ী পূজা মণ্ডপ দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।