পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম নামাঙ্কিত সাহিত্যিক ও কবি প্রাচীন মেসোপটেমিয়ার আক্কাদীয় রাজকন্যা এবং প্রধান পুরোহিত এনহেদুয়ানা। যিশুখ্রিস্টের জন্মের প্রায় ২৩০০ বছর আগের কথা, সুমেরীয় সভ্যতার ‘উর’ নগরীতে চন্দ্রদেবতার প্রধান পুরোহিত হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করতেন। সেই সময়েই তিনি তাঁর অমর সাহিত্যকর্মগুলো সৃষ্টি করেছিলেন।
ইতিহাসের পাতায় এনহেদুয়ানার গুরুত্ব অনন্য, তিনি গ্রিক মহাকবি হোমার এবং ভারতীয় আদিকবি বাল্মীকিরও প্রায় দেড় হাজার বছর আগে কাদার ফলকে কিউনিফর্ম লিপিতে নিজের নামসহ কবিতা লিখে রেখে গেছেন, যা তাঁকে এনে দেয় পৃথিবীর প্রথম সুনির্দিষ্ট লেখক সত্তার মর্যাদা। সম্রাট সারগনের এই কন্যা একাধারে ছিলেন রাজকুমারী, প্রধান পুরোহিত এবং এক দক্ষ রাজনীতিবিদ। তিনি সুমের ও আক্কাদের ভিন্ন দুটি সংস্কৃতিকে ধর্মের মেলবন্ধনে আবদ্ধ করতে ৪২টি ‘মন্দির স্তোত্রাবলী’ রচনা করেছিলেন। তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত ও প্রভাবশালী সৃষ্টি হলো ১৫৩ লাইনের দীর্ঘ কবিতা ‘ইন্নানার প্রতি স্তবগান’, যেখানে তিনি রাজনৈতিক বিদ্রোহের মুখে পড়ে নিজের ক্ষমতাচ্যুতি, মরুভূমিতে নির্বাসন, ব্যক্তিগত মানসিক যন্ত্রণা এবং পরবর্তীতে দেবী ইন্নানার অলৌকিক কৃপায় সসম্মানে ফিরে আসার এক অবিস্মরণীয় উপাখ্যান তুলে ধরেছিলেন।
এনহেদুয়ানা শুধুমাত্র একজন ধর্মীয় নেতাই ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন বিশ্বসাহিত্যের এমন এক আদি রূপকার, যিনি মানব ইতিহাসে প্রথমবার নিজস্ব লেখক সত্তা বা ‘আমি’ ধারণার জন্ম দিয়ে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছিলেন এবং হাজার বছর ধরে মৌখিকভাবে চলে আসা সাহিত্যকে প্রথমবার লিখিত রূপ দিয়ে অমর করে গেছেন চিরকালের জন্য।


