জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেয়া ভাষণে জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে বিশ্বনেতাদের কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। গত মাসে নেপালে আঘাত হানা ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ এই সংকটের জন্য দায়ী নয় উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা ঝুঁকির জন্য এটি ছিল একটি ‘সতর্কবার্তা’।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশন চলাকালে দেয়া ভাষণে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই দুর্যোগ ছিল বিশ্বের জন্য একটি সতর্কবার্তা। আজ আমি আপনাদের কাছে জানতে চাচ্ছি: আপনারা কি সত্যিই সেই সতর্কবার্তাটি শুনেছেন?’
গত আগস্টের শেষ দিকে নেপাল ও তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধস আঘাত হানে, যাতে দেড় হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং হাজার হাজার মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, নেপালে সাম্প্রতিক ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার মূল কারণ ছিল হিমালয়ের উজান অংশে হিমবাহ ধস এবং বিশাল বরফ ও পাথরের চাডাই ভেঙে নদীর গতিপথ অবরুদ্ধ বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া। তারা আরও বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে হিমালয়ের বরফ দ্রুত গলছে এবং দুর্বল হয়ে পড়ছে, যা এই ধরনের ধস ও আকস্মিক বিপর্যয় ত্বরান্বিত করছে।
নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বের মোট গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে নেপালের অবদান ০.১ শতাংশেরও কম। আমরা এই সংকট তৈরি করিনি, অথচ এর মূল্য আমাদেরই দিতে হচ্ছে।’
শাহ বলেন, চার সপ্তাহ আগে আঘাত হানা বন্যার পর নেপালের পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের পরিমাণ দেশটির জিডিপি প্রায় ১০ শতাংশ বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে। তিনি বলেন, জলবায়ুজনিত ভয়াবহ বিপর্যয়ের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পুনর্গঠন কাজের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণে বাধ্য করা উচিত নয়।
জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে নেপালের প্রয়োজনীয় বিপুল ব্যয়ের একটি অংশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বহনের আহ্বান জানান বালেন্দ্র শাহ। একই সঙ্গে তিনি ‘হিমালয়া ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স মেকানিজম’ নামে একটি আঞ্চলিক উদ্যোগ গঠনের প্রস্তাব দেন। এতে নেপাল, ভারত ও চীনকে যুক্ত করে স্যাটেলাইট তথ্য ও বিশেষজ্ঞ মতামত বিনিময়, হিমবাহের হ্রদ পর্যবেক্ষণ এবং যৌথ আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করার কথা বলা হয়েছে।
নেপাল জাতিসংঘের লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড থেকে ২ কোটি ডলার সহায়তা চেয়েছে। একটি দেশের জন্য ওই তহবিল থেকে সর্বোচ্চ যত অর্থ চাওয়া যায়, এটিই সেই সীমা।
