নতুন গ্রামীণ রাস্তা নির্মাণে ইটের পরিবর্তে শতভাগ পরিবেশবান্ধব ব্লক ব্যবহার করতে হবে।’

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নড়াইল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলার আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন কার্যক্রমসহ সার্বিক সরকারি কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশ দেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘নতুন গ্রামীণ রাস্তা নির্মাণে ইটের পরিবর্তে শতভাগ পরিবেশবান্ধব ব্লক ব্যবহার করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, আগামী প্রজন্মের জন্য সবুজ ও পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে। বর্তমান সরকারের পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।

পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্যের দূষণ নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও সরকারি দপ্তরে একবার ব্যবহারযোগ্য পলিথিন ব্যাগ ও প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকার ঘোষিত পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি বাস্তবায়নের পাশাপাশি হাসপাতালে আসা ডেঙ্গু ও হাম আক্রান্ত রোগীদের সীমাবদ্ধতার মধ্যেও যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন তিনি।

সভায় মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখা এবং দলমত নির্বিশেষে সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী। চিহ্নিত ‘গুপ্তদের’ নজরদারিতে রাখার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, যাতে তারা কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে। এছাড়া সরকারি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, জনগণের অংশগ্রহণ বাড়লে প্রতিটি প্রকল্প বাস্তবায়ন সহজ হবে।

স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রসঙ্গে কর্মকর্তা ও সুশীল সমাজের উদ্দেশ্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেকটা মানুষ তার সন্তানকে ভালোবাসে। আপনি হারাম টাকা ইনকাম করতেছেন সন্তানদের জন্য, আপনার সন্তান বোবা হবে পরবর্তী প্রজন্ম ক্যানসার আক্রান্ত হবে। এই টাকা কিন্তু থাকবে না যে কোনোভাবেই টাকাটা চলে যাবে। নেশা ও মানসিকতার জন্য অবৈধ টাকা ইনকামের দিকে ধাবিত হচ্ছি। এই অবৈধ হারাম টাকা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য যন্ত্রণার কারণ হবে। এজন্য সবাইকে বলি, নৈতিক জায়গাগুলো ভেতরে ধারণের চেষ্টা করেন তাতে সামাজিক সম্প্রীতি মানবতা বোধ আরও তৈরি। সামনে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পূজা। সারা দেশে আমরা হিন্দু মুসলিম সব ধর্মের মানুষ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মেলবন্ধনে বসবাস করে আসতেছি। পূর্বে আমরা দেখেছি, এটা নিয়ে অনেকে চক্রান্ত করে দাঙ্গা হাঙ্গামা সৃষ্টি বাঁধিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধন নষ্টের চেষ্টা করে। এটার ব্যাপারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান জানান সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি। সবশেষ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ধর্ম যার যার – উৎসব তার, দেশটা সবার এবং নিরাপত্তা পাবার অধিকার দেশের প্রতিটা নাগরিকের।

সভায় জেলা প্রশাসক ড. আব্দুল ছালামের সভাপতিত্বে, জেলা প্রশাসন, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, এসআরবি, সিভিল সার্জন, ইউএনও, ওসিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক দলের নেতা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *