সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ১-০ গোলে হারের পর ফিফা আসিয়ান কাপ থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেছে বাংলাদেশের। তবে কোচ থমাস ডুলি মনে করেন, এই হারের চেয়েও বাংলাদেশের সমস্যাগুলো অনেক গভীরে। তার মতে, শক্তিশালী ঘরোয়া লিগের অভাব, জাতীয় দলের প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় না পাওয়া এবং নির্ভরযোগ্য গোলস্কোরারের অনুপস্থিতি বাংলাদেশের অগ্রগতির পথে বড় বাধা।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) জাকার্তায় বাংলাদেশের পারফরম্যান্সে উন্নতি দেখে উৎসাহিত হয়েছেন জার্মান-আমেরিকান এই কোচ। তবে ম্যাচ শেষে তার মূল্যায়নে আরও স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে, কেন শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে বাংলাদেশ নিয়মিত সংগ্রাম করে।
ডুলি বলেন, বাংলাদেশ এবং সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দলের মধ্যে সবচেয়ে বড় কাঠামোগত পার্থক্য হলো ঘরোয়া ফুটবলের মান ও নিয়মিত প্রতিযোগিতার সুযোগ।
তিনি বলেন, ‘ফুটবলের মূল বিষয়ই হলো প্রতিযোগিতা। বাংলাদেশে আমাদের ঘরোয়া প্রতিযোগিতা খুব বড় নয়। মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর বা ইন্দোনেশিয়ার মতো লিগ আমাদের নেই।’
তিনি জোর দিয়ে বলেন, একটি কার্যকর লিগ থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ খেলোয়াড়দের নিয়মিত প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলতে হয়, তবেই তারা নিজেদের উন্নত করতে পারে।
ডুলি বলেন, ‘লিগ থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ খেলোয়াড়রা প্রতি সপ্তাহে ম্যাচ খেলে এবং নিজেদের ভুল থেকে শেখার সুযোগ পায়। এই বিষয়টিই আমাদের নেই।’
জাতীয় দলের সঙ্গে কাজ করার জন্য পর্যাপ্ত সময় না পাওয়াকেও আরেকটি বড় সমস্যা হিসেবে দেখছেন ডুলি। তার মতে, আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের আগে বাংলাদেশ খুব অল্প সময় প্রস্তুতির সুযোগ পায়। ফলে কোচিং স্টাফকে বিদেশে খেলার অভিজ্ঞতা থাকা খেলোয়াড়দের ওপর অনেক বেশি নির্ভর করতে হয়।
বাংলাদেশের জন্য বারবার সামনে আসা আরেকটি সমস্যাও চিহ্নিত করেছেন কোচ, সেটি হলো গোল করার দক্ষতা। সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে বাংলাদেশ বেশ কিছু সুযোগ তৈরি করলেও নিজেদের দখলে থাকা বল এবং আক্রমণাত্মক খেলাকে গোলে পরিণত করতে পারেনি।
তিনি বলেন, ‘আমরা সুযোগ তৈরি করেছি, কিন্তু ইন্দোনেশিয়া বা এশিয়ার অন্য দলগুলোর মতো আমাদের কোনো স্ট্রাইকার নেই। আমাদের সেটা নেই, তাই আমাদের বিকল্প সমাধান খুঁজে বের করতে হবে।’
সেট-পিস নিয়েও আরও কাজ করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। বাংলাদেশ সেট-পিস অনুশীলন করেনি, এমন ধারণা উড়িয়ে দিয়ে ডুলি জানান, দেশের ক্যাম্পে তারা সেট-পিস নিয়ে অনুশীলন করেছে। তবে বৃষ্টির কারণে মাঠের অবস্থা খারাপ থাকায় দুটি অনুশীলন সেশন সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।
তিনি বলেন, ‘ফ্রি-কিকের জন্য আমাদের এক-দুটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু ম্যাচে সেসব পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। তবে খেলোয়াড়রা কর্নার ও ফ্রি-কিক কীভাবে নিতে হয়, তা জানে।’
সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ম্যাচের আগে বাংলাদেশের খেলায় যে দীর্ঘ বলনির্ভর কৌশল দেখা গিয়েছিল, সেই ধারা থেকে সরে এসে জাকার্তায় বাংলাদেশকে অনেক বেশি আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে দেখা যায়।
এই পরিবর্তনে সন্তুষ্ট ডুলি। তবে তিনি জানেন, বাংলাদেশের এসব সমস্যা রাতারাতি সমাধান করা সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, ‘আজ আমরা অনেক বেশি আক্রমণাত্মক ছিলাম এবং ৫০-৫০ বলগুলো জিতেছি। কিন্তু আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো গোল করা।’
