ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার। গত রোববার ইরাকি সরকারের এক কর্মকর্তা জানান, যুদ্ধ ও লজিস্টিক সহায়তার দায়িত্বে থাকা মার্কিন বাহিনীর ‘সব সদস্যই ইরাক ছেড়ে গেছেন’।
মার্কিন সেনা প্রত্যাহারকে কেন্দ্র করে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) থেকে শনিবার (৩ অক্টোবর) পর্যন্ত চার দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে ইরাক। ‘জাতীয় সার্বভৌমত্ব দিবস’ উপলক্ষে দেশজুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচিও নেওয়া হয়েছে।
ইরাকি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে ইরাক ও যুক্তরাষ্ট্র দেশটিতে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি শেষ করার জন্য একটি সময়সীমায় সম্মত হয়েছিল। মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছর ধরে ইরাকে প্রায় ২ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনা মোতায়েন ছিল।
প্রত্যাহারের আগে ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের ইরবিল, বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে একটি সামরিক ঘাঁটি এবং রাজধানীর গ্রিন জোনসহ বিভিন্ন এলাকায় মার্কিন সেনাদের অবস্থান ছিল।
ইরাকি সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়কের কার্যালয়ের প্রধান আবদুল আমির আল-শাম্মারির বরাত দিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। তিনি জানান, ভিক্টোরিয়া ঘাঁটি ইতোমধ্যে মার্কিন সেনামুক্ত করা হয়েছে। ঘাঁটিটি এখন কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধিদের গ্রহণের জন্য একটি কেন্দ্রে রূপান্তর করা হবে।
ইরাকের সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের সরকারের উৎখাতে ২০০৩ সালের মার্চে দেশটিতে সামরিক আগ্রাসন শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। প্রায় ৮ বছর পর ২০১১ সালে দেশটি থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা হয়। তবে এর তিন বছর পর ২০১৪ সালে ইরাক সরকারের অনুরোধে আন্তর্জাতিক জোটের অংশ হিসেবে জঙ্গি গোষ্ঠী আইএসের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে অংশ নিতে মার্কিন সেনারা আবার ইরাকে ফিরে আসে।
২০১৭ সালে ইরাক থেকে আইএসকে পরাজিত করার ঘোষণা দেওয়া হয়। এরপরও দেশটিতে মার্কিন সেনা রয়ে যায়। ইরানকে ঘিরে চলমান আঞ্চলিক সংঘাতের মধ্যেই ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা হলো। সাম্প্রতিক সময়ে ইরাকে মার্কিন স্থাপনা ও সেনাদের লক্ষ্য করে হামলার ঘটনাও ঘটেছে। ফলে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহারের সময় দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
তবে ইরাক সরকার বলছে, মার্কিন সামরিক উপস্থিতি শেষ হলেও দুই দেশের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা পুরোপুরি শেষ হয়ে যাচ্ছে না। ভবিষ্যতে সহযোগিতার ধরন পরিবর্তিত হয়ে কূটনৈতিক ও অন্যান্য নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে তা অব্যাহত থাকতে পারে।
