না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন ছড়াকার আখতার হুসেন

না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন ছড়াকার আখতার হুসেন

পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন শিশুসাহিত্যের অন্যতম পুরোধা ছড়াকার আখতার হুসেন। আজ বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮১ বছর। নাটোরের লালপুর উপজেলার নুরুল্লাপুর গ্রামে ১৯৪৫ সালের ১ নভেম্বরে তার জন্ম। অনেকদিন থেকেই তিনি বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন।

জানা যায়, আখতার হুসেন অনেকদিন ধরে ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন। সর্বশেষ তার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়েছিল। মৃত্যুকালে আখতার হুসেন দুই ছেলে পান্থ ও প্রমিতসহ অসংখ্য স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

অত্যন্ত সাদাসিধে জীবন কাটিয়ে গেলেন আখতার হুসেন। খুব আন্তরিক, সুহৃদ, সদা হাস্যজ্বল নির্লোভ মানুষ ছিলেন তিনি। অনেকটাই তার ছড়ার মতো সহজ সরল। যেমন শিশুতোষ সাহিত্য রচনা করতেন তিনি, তেমনি স্বভাবও ছিল তার শিশুসুলভ। খ্যাতিমান ছিলেন কিন্তু খ্যাতির মোহে পড়েননি। আপন মনে নিজের কাজটি করে গেছেন। বিনয়ের সঙ্গে মাথা নিচু করে চলেছেন বরাবর। খুব সহজে অপরের সঙ্গে মিশে যেতে পারতেন। শিশু, তরুণ প্রজন্ম ও সহকর্মীদের প্রতিনিয়ত উৎসাহিত করতেন।

পেশাগত জীবনে সাংবাদিকতা করেছেন। দৈনিক জনকণ্ঠ, দৈনিক প্রথম আলোসহ বিভিন্ন পত্রিকায় কাজ করেছেন। বাংলা সাহিত্যে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কারসহ অনেক পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন। ২০০৯ সাল থেকে ২০২৫ পর্যন্ত তিনি প্রথমা প্রকাশনের পাণ্ডুলিপি সম্পাদকের দায়িত্বপালন করে অবসরে যান। বাম চিন্তাধারায় বিভিন্ন সময় যুক্ত থেকেছেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, খেলাঘর ও উদীচীর সঙ্গে। বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন তিনি।

সাহিত্যে অবদান রাখায় আখতার হুসেন বাংলা একাডেমি পুরস্কার’ অগ্রণী ব্যাংক-শিশু একাডেমি শিশুসাহিত্য পুরস্কার’, ‘আলাওল সাহিত্য পুরস্কার’, ‘ ভাষা শহীদ আবদুল জব্বার স্মৃতিপদক’, ‘, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্টাডিজ অনুষদ প্রদত্ত ‘মুক্তিযোদ্ধা কলম সৈনিক সম্মাননা স্মারক’, ‘মনিরউদ্দীন ইউসুফ সাহিত্য পুরস্কার’, ‘এম নুরুল কাদের শিশুসাহিত্য পুরস্কার’ ‘বজলুর রহমান স্মৃতিপদক’সহ আরও অনেক পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন । তিনি ছিলেন বাংলা একাডেমির ফেলো।